মহরম আনন্দের নয়, রয়েছে রক্তাক্ত ইতিহাস!

স্বদেশ জার্নাল → প্রকাশ : 9 Aug 2022, 9:50:06 PM

image06

হিজরি অব্দের চারটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাসের মধ্যে অন্যতম হল মহরম। এটি হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস। হযরত মহম্মদ এই মাস থেকেই ইসলাম ধর্ম প্রচার করা শুরু করেছিলেন। সমগ্র বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা এই মাসের ১০ তারিখে পালন করেন আশুরা। এই শব্দটি এসেছে আশরা থেকে, যারা আরবি অর্থ ১০। মহরম শব্দটিও একটি আরবি শব্দ যার অর্থ সম্মানিত কিংবা পবিত্র।

প্রাচীন কাল থেকেই এই মাসটিকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়। এই দিনটির গুরুত্ব হয়ত বলে শেষ করা যাবে না। এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে বহু ভালো দিক, এছাড়াও হৃদয় বিদীর্ণ করা এক দুঃখের ঘটনা। আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছিলেন এই দিনে। মহরম মাসের এই দিনেই আল্লাহতালা সৃষ্টি করেছিলেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের। এইদিন জন্ম নিয়েছিলেন ইব্রাহিম। এই দিনই কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন হযরত আইয়ুব।

এছাড়াও আশুরার রোজাকে রমজান মাসের সর্বোচ্চ রোজা বলা হয়।মহরম হল একটি ইসলামি মাস। এই মাসের ১০তারিখ ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দিন শহীদ হয়েছিলেন ফাতিমা বিবির পুত্র ইমাম হুসেন। তাই এই দিনটিকে স্মরণ করে প্রতিবছর পালিত হয় মহরম। প্রকৃতপক্ষে মহরম কোন উৎসব নয়। শোক জ্ঞাপনের দিন। এই মাসে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের সমস্ত খুশি ত্যাগ করে শোক পালন করেন। এই দিনটিকে মনে করা হয় অধর্মের উপর ধর্মের জয়ের প্রতীক হিসেবে।

কেন পালিত হয় মহরম ?

হিজরির ৬০শব্দে ইরাকে ইয়াজিদ ( এজিদ) নামের একজন নিষ্ঠুর বাদশাহ ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে মানবতার শত্রু। বিশ্বাস করতেন না আল্লাহকে। নিজেই নিজেকে খলিফা বলে ঘোষণা করেছিলেন। ইয়াজিদ চেয়েছিলেন ইমাম হুসেন তাঁর শিবিরে যোগ দান করুক। কিন্তু ইমাম হুসেন তাঁর সিদ্ধান্তে মান্যতা না দেওয়ায় সহ্য করতে হয় অনেক অত্যাচার। তারপর ইমাম হুসেন মক্কা ছেড়ে চলে যান মদিনায়, সাথে পরিবার এবং সঙ্গীরাও ছিলেন।

কিন্তু পরবর্তীকালে আবার ইমাম হুসেনকে ডেকে নিয়ে আসা হয় ইরাকের কারবালাতে। নিষ্ঠুর ইয়াজিদের সৈন্য পরিকল্পনা করে হত্যা করেন ইমাম হুসেন এবং তাঁর পরিবারকে। হুসেনের ছয় মাসের ছেলে আলি অসগর এবং আঠারো বছরের ছেলে আলি ইয়াজিদ পর্যন্ত রেহাই পায়নি নির্মম সৈন্যদের তির থেকে। হত্যা করা হয় ইমাম হুসেনের পুরো পরিবার এবং সঙ্গীদের। অবশেষে ইমাম হুসেনের মাথা কেটে ফেলা হয়। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কথা আজও ভুলতে পারেনি মানুষ। এই দিনটিকে স্মরণ করে প্রতিবছর পালিত হয় মহরম।

মহরমের গুরুত্ব

মহরম মাস থেকেই ইসলামী ধর্মের নতুন বছরের সূচনা হয়। হুসেনের স্মরণে বার করা হয় জুলুস। এই দিন রোজা রাখার প্রথা রয়েছে। এই বিশেষ দিনের রোজাকে বলা হয় আশুরা। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী আশুরা রোজা রাখা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। ইমাম হোসেন কারবালায় প্রাণ দিয়েছিলেন ইসলামী ধর্ম ও মানবতা রক্ষার্থে। এই কারবালা বর্তমানে অবস্থিত ইরানের বাগদাদ থেকে একশো কুড়ি কিলোমিটার দূরে। প্রকৃতপক্ষে এই দিনের ঘটনা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাই ইসলামী ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা সমস্ত আনন্দ খুশি ত্যাগ করে মহরমের দিন শোক পালন করেন।


Share

বিজ্ঞাপন
© All rights reserved © 2022 swadeshjournal.news Design & Developed by : alauddinsir